খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে নুরুল কালাম ওরফে ভূট্টো নামের আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা বড় একটি পাহাড় কাটছেন। এরই মধ্যে উচ্চতায় পাহাড়টির ৮-১০ ফুট কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, এক সপ্তাহ ধরে রাতে পেলোডার দিয়ে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বাইরের লোকজন গেলেই পেলোডার সরিয়ে ফেলা হয়।
নুরুল কালাম মেরুং সওদাগরপাড়ার বাসিন্দা ও মেরুং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি।
স্থানীয়দের কাছ থেকে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, ছোট মেরুং-চোংড়াছড়ি সড়কের ১৬ নম্বর মসজিদসংলগ্ন জায়গায় পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। এ সময় আশপাশের লোকজন জানায়, সাংবাদিক যাওয়ার খবর পেয়েই নুরুল কালাম পেলোডার সরিয়ে ফেলেছেন। তবে সেখান থেকে ফিরে আসার পর স্থানীয়রা মোবাইল ফোনে জানায়, রাত ১২টার দিকে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে গিয়ে পেলোডার পাওয়া যায়। তবে সাংবাদিক দেখামাত্র চালক পেলোডারের স্টার্ট বন্ধ করে চলে যান। এ সময় এগিয়ে আসেন নুরুল কালাম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশাল পাহাড়টি কাটার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশপাশের লোকজন জানায়, পাকা সড়কের পাশের অংশটি কাটা বাকি; সেটি কাটা হবে সবার শেষে। প্রথম পর্যায়ে পাহাড়টির প্রায় ৮-১০ ফুট উচ্চতার সমান কেটে ফেলা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বারের মতো কাটা অংশটি আরো তিন-চার ফুট আবারও কাটা হচ্ছে। সপ্তাহখানেক ধরে পাকা সড়কের পাশে পাহাড় কাটা হলেও দেখার কেউ নেই।
পাহাড় কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে নুরুল কালাম বলেন, ‘এটি আমার নিজস্ব পাহাড়। এখানে একটি খামারবাড়ি করার জন্য আমি পাহাড়টি কাটছি। ’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামছু মিয়া (৫৫) জানান, প্রায় এক সপ্তাহ থেকে পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। তবে কখনো দিনের বেলায় কাটা হয় না, শুধু রাতে কাটা হয়। পেলোডারটিও দিনে দেখা যায় না। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই পেলোডার দিনে রাখা হয় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে ছোট মেরুং দাখিল মাদরাসার পাশের একটি বাড়ির সামনে।
ছোট মেরুং বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ভিডিপি (গ্রাম প্রতিরক্ষা দল) ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে পাহাড় কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। ’
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমি মেম্বার হলেও বিষয়টি কেউ আমাকে অবগত করেনি। বিষয়টি লোকজনের কাছে শুনেছিলাম। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখব বলে ভেবেছি। কিন্তু ব্যস্ততার কারণে যাওয়া হয়নি। তবে পাহাড় কাটার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কাশেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পাহাড় কাটা বেআইনি। বিষয়টি প্রশাসন তদন্ত করে দেখবে বলে আশা করছি। আর আওয়ামী লীগ সব ধরনের বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে। ’
খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান, দীঘিনালায় এর আগেও কয়েকবার পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটেছে। তখন আইনি প্রক্রিয়ায় পাহাড় কাটা বন্ধও করা হয়েছে। মামলাও করা হয়েছে। আর বর্তমান সরকার পরিবেশ সুরক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল। তাই পাহাড় কাটা বন্ধ করতে এবং অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের তৎপর হওয়া দরকার। এ নিয়ে প্রয়োজনে পরিবেশ আদালতে যাওয়া হবে বলেও জানান প্রদীপ চৌধুরী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরাফাতুল আলম জানান, পাহাড় কাটা আইনত নিষেধ। ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হবে, কেউ যদি বেআইনিভাবে পাহাড় কাটে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply